গাইবান্ধার পশ্চিম কুপতলায় কবরস্থান জবর দখলের চেষ্টাঃ রাজা মিয়া কর্তৃক এনছাড় আলীর বাড়িঘর ভাংচুর- মারপিট - দৈনিক আজকের দুর্নীতি
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১১ আগস্ট ২০২২

গাইবান্ধার পশ্চিম কুপতলায় কবরস্থান জবর দখলের চেষ্টাঃ রাজা মিয়া কর্তৃক এনছাড় আলীর বাড়িঘর ভাংচুর- মারপিট

দৈনিক আজকের দুর্নীতি
আগস্ট ১১, ২০২২ ৩:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আব্দুল মুনতাকিন জুয়েল

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের পশ্চিম কুপতলার হাজিপাড়া গ্রামে রাজা মিয়া কর্তৃক এনছাড় আলীর বাড়িঘর ভাংচুর, মারপিট, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। মারপিটে এনছাড় আলীর স্ত্রী মোছা: রোসনা বেগম গুরুত্বর আহত সহ ৪জন আহত হয়েছে। এ বিষয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী এনছাড় আলী।

গাইবান্ধা সদর থানার অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে- গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের পশ্চিম কুপতলার হাজিপাড়া গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের পুত্র এনছাড় আলীর পৈত্রিক সুত্রে ১০ বছরের ভোগ দখলকৃত পারিবারিক কবরস্থান নিয়ে পার্শ্ববর্তী হাবি মিয়ার পুত্র রাজা মিয়ার মনোমালিন্য চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯আগষ্ট ২২ ইং তারিখ সকালে বিবাদী রাজা মিয়া গংদের সাথে বাদী এনছাড় আলীদের সাথে ঝগড়া হয়। এতে বিবাদী রাজা মিয়া এনছাড় আলীদের গালিগালাজ সহ বাড়িঘর, জমি দখল সহ রাস্তাঘাটে আক্রমন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর হুমকি দিয়ে আসছিল। পরে ভুক্তভোগী এনছাড় আলী বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। যার নাম্বার-৫৩৬। অভিযোগ দায়ের এর বিষয়টি বিবাদী রাজা মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ১০ আগষ্ট ২২ ইং তারিখ বিকেলে রাজা মিয়া লাঠি, লোহার রড, ধারালো ছোরা সহ দলবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগী এনছাড় আলীর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ঘরের বেড়া, বাড়ির গেট ভাংচুর, ঘরে থাকা আংটি ও নগদ ৩লক্ষ টাকা লুট করে এবং কবরস্থানে বাশ ঝাড়ের ১শ টি বাশ কেটে নেয়া সহ প্রায় কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ সময় এনছাড় আলী সহ তার ভাবি মোছা: রোসনা বেগম ও রোসনার ছেলে সাজাহান, রাসেল এগিয়ে বাধা দিলে বিবাদী আজিজল হক মারার হুমকি দিলে ভুক্তভোগী এনছাড় আলীদের মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে। অন্যদিকে বিবাদী রাজা মিয়ার হাতে থাকা ছোড়া দিয়ে রোসনা বেগমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করতে ধরলে রোসনা ডান দিয়ে ঠেকালে তার ডান হাতের ৩টি আংগুল হাড় কাটা জখম হয় এবং মাটিতে পড়ে গেলে জাহাঙ্গীর মিয়া তাকে শ্বাসরোধের উদ্দেশ্যে দুই হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে ও বুকে ও পিঠে আঘাত করে। সে সাথে রোসনার মেয়ে পারভিন বেগমকে রাজা মিয়া তুলে নিয়ে যেতে ধরায় তার চাচা চাচি বাধা দিলে পারভিনকে রেখে যায়। বিবাদী আলমগীর বাশের লাঠি দিয়ে এনছাড় আলীর পায়ে ও পিঠে আঘাত করে। আবার অন্য বিবাদী আসাদ মিয়া লোহার রড দিয়ে সাজাহানের হাতে রড দিয়ে আঘাত করে কনুই ও কব্জির মাঝখানে লেগে জখম হয়। বিবাদী বাবু মিয়া ঘরে প্রবেশ করে ষ্টিলের শোকেসের ড্রয়ারে থাকা জমি বন্দকের ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা লুট করে। তাদের আত্বীয় স্বজন এগিয়ে এসে বাধা দিলে রাজা মিয়া হুমকি দিয়ে চলে গেলে পরে রোসনা বেগমকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার ভর্তি করায় তিনি চিকিৎসাধীন আছে।

বিষয়টি তদন্ত করে রাজা মিয়া সহ অন্যান্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গাইবান্ধা সদর থানায় এজাহার দায়ের করতে করতে গেলে গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান এজাহার গ্রহন করেন নি।

এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন- তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।