ব্রেকিং নিউজ
গাজীপুরে ” জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সপ্তাহ ” পালিত

গাজীপুরে ” জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সপ্তাহ ” পালিত

এম এ হানিফ রানা ( স্টাফ রিপোর্টার)

” জরায়ু মুখ ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সার ” এই কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর সারা বিশ্বে লাখ লাখ মা বোন মারা যাচ্ছেন। আরো অনেক নারী মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। তাদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হয়তো অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তবুও থামানো যাচ্ছে না এই মরনব্যাধি ক্যান্সার।
এত এত মানুষ আক্রান্ত হওয়ার মুল একটি কারন হলো সঠিক ভাবে এই সম্পর্কে না জানা। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যান্সারের বিষয় অবহিত করার জন্য নানান প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও বিভিন্ন ভাবে মা বোনদের সচেতন করার লক্ষ্যে ” জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শহীদ আহ্সান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালের আয়োজনে ১৯-২৫ জানুয়ারী ২০২১ ইং ” জরায়ু – মুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সপ্তাহ এবং ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ( স্হান ভায়া রুম)
সকলের সচেতনা বৃদ্ধি ও কতিপয় করনীয় বিষয়ে সকলকে অবহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত হয় এই ক্যাম্প।

অবাক করার মতো বিষয় হলো, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর অন্তত ১০ লাখ নারী স্তন এবং জরায়ু মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। এবং প্রতি বছর এই দু’টি রোগে আক্রান্ত নারীদের দুই তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়৷ অসচেতনতা ভরা দেশগুলোতে এই মৃত্যু হার আরও বেশি৷
চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির প্রেক্ষাপটে আমরা জানি যে, স্তন এবং জরায়ু মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের ম্যামোগ্রাফি এবং রেডিওথেরাপির মতো কিছু ডায়গনিস্টিক এবং চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব৷ বিশেষ করে প্রাথমিক অবস্থার ক্যানসার মোকাবিলা করার জন্য এসব সেবা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে৷ কিন্তু এই চিকিৎসাপদ্ধতি অনেক ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে প্রতি বছর লাখো নারীর মৃত্যু হয়৷

গবেষকরা বলছেন, এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে না এলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের নারীদের এই প্রাণঘাতী রোগ থেকে বাঁচানো মুশকিল হবে৷ গবেষকরা তাই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে করে ২০৩০ সালের মধ্যে স্তন এবং জরায়ু মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এবং মৃত্যুর হার অনেকটা কমিয়ে আনা যায়।
জরায়ু মুখে ক্যানসার বিশ্বব্যাপী নারী মৃত্যুর অন্যতম কারণ৷ বাংলাদেশেও প্রতি বছর প্রায় ১৮ হাজার নারী নতুন করে জরায়ু মুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রতি বছর প্রায় ১২ হাজার নারী এই ক্যানসারে মৃত্যু বরণ করেন৷ তাই পরিক্ষা করে রোগের লক্ষ্মণ ধরা পড়লেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্রুত সুনিদির্ষ্ট চিকিৎসা শুরু করতে পারেন, যাতে ভবিষ্যতে রোগীটির ক্যানসারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা না থাকে।

যৌন সংস্পর্শ জরায়ু মুখের ক্যানসার ছড়ানোর প্রধান কারণ৷ যৌন সক্রিয় প্রতিটি নারীই তাই এই ঝুঁকির আওতাভুক্ত৷ যৌন সক্রিয় সকল নারীর দৈহিক মিলন শুরুর তিন বছর পর থেকে বছরে একবার প্যাপ টেস্ট করা প্রয়োজন৷ যদি পরপর তিনটি পরীক্ষার ফলাফলে কোনো সমস্যা চিহ্নিত না হয়, সেক্ষেত্রে প্রতি তিন বছরে একবার প্যাপ টেস্ট করা যেতে পারে৷ মেনোপজ অথবা জরায়ুর আংশিক অপসারণের পরেও প্যাপ টেস্ট অব্যাহত রাখা প্রয়োজন৷ তবে সত্তরোর্ধ নারীদের জন্য যদি বিগত দশ বছরে পর পর তিনটি পরীক্ষার ফলাফলে কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে তাঁদের আর প্যাপ টেস্ট করার প্রয়োজন নেই৷ গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যাপ টেস্ট করা যেতে পারে৷
জরায়ু মুখের ক্যানসার কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়৷ হিউম্যান প্যাপিলোমা নামক একটি ঘাতক ভাইরাস এই রোগের প্রধান কারণ৷ সাধারণত অধিকাংশ নারীই জীবদ্দশায় একাধিকবার এইচপিভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়৷ একজন নারীর সহজাত প্রতিরোধ ক্ষমতা বা কনডমের ব্যবহার কখনোই এই ইনফেকশনের বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করতে পারে না৷তাছরা চিকিৎসা বিজ্ঞান আরো উন্নত হওয়ায় মৃত্যু হার কমে আসছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ এবং সাবধানতা জরায়ু মুখের ক্যানসার প্রায় সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করতে পারে৷

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয়
নারীদের আরেকটি ক্যানসার হলো স্তন ক্যান্সার৷ সারা বিশ্বের নারীদের প্রতি ৮ জনের মধ্যে একজন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত৷ বাংলাদেশেও অনেক নারী আক্রান্ত হচ্ছেন এই স্তন ক্যান্সারে ৷ যে কোনো বয়সের নারীই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন৷ তবে মাঝ বয়সি নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি৷ বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঝুঁকিও বাড়ে৷ সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে৷
স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সর্বপ্রথম যে জিনিসটির প্রয়োজন, তা হলো নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা৷ নিয়মিত ব্রেস্ট স্ক্রিনিং করতে হবে৷ ২০ বছর বয়স থেকে প্রত্যেক মহিলার উচিত স্তনের সুস্থতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া৷ এজন্য প্রতি মাসে মাসিক শেষ হওয়ার ৫ম থেকে ৭ম দিনের যে কোনো দিন তাঁকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বা গোসলের সময় স্তন ও বগলের নিচের অংশ পরীক্ষা করতে হবে এবং যে কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে৷ ৪০ বছর বয়স থেকে প্রত্যেক নারীর বছরে একবার ম্যামোগ্রাম নামের বিশেষ পরীক্ষাটি করাতে হবে৷ সম্ভব না হলে স্তনের আল্ট্রাসনোগ্রাম করা যেতে পারে৷ প্রয়োজনে স্তনে কোন ব্যাথা বা চাকা চাকা অনুভব হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে।

আমাদের মতো অধিক জনবহুল দেশে এবং অর্থকষ্টে থাকা মানুষদের এই সমস্ত চিকিৎসা ভার গ্রহন করা অনেকটা কষ্টসাধ্য বটে। তবে যদি নারীদের এই সমস্ত বিষয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে অবহিত না করা হয় এবং নারীরা যত্নবান না হোন তবে আগামী কয়েক বছর পরে কঠিন রুপ নিতে পারে এই ” জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যান্সার। তাই সকলকেই বাঁচতে হলে জানতে হবে এবং তা মানতে হবে। সঠিকভাবে সচেতনতা এবং সু পরামর্শ ও যত্নবান হলেই প্রতিরোধ করা সম্ভব এই মরনব্যাধি রোগ এবং সঠিক দিকনির্দেশনা পাবেন আগামী প্রজন্ম।

আরো দেখুন

আদিবাসবীদের চিকিৎসা সেবার প্রতিশ্রুতি অদম্য ম্যাচোখেন রাখাইন এমবিবিএস ভর্তি সুযোগ পেলেন

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পেলেন আদিবাসী রাখাইন ছাত্রী ম্যাচোখেন। তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *