বাংলাদেশের ট্যানেল ওয়ান সিটি টু টাউন’ চট্টগ্রাম কর্ণফুলী টানেল - দৈনিক আজকের দুর্নীতি
ঢাকামঙ্গলবার , ১২ জুলাই ২০২২

বাংলাদেশের ট্যানেল ওয়ান সিটি টু টাউন’ চট্টগ্রাম কর্ণফুলী টানেল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
জুলাই ১২, ২০২২ ২:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর মধ্যভাগে তলদেশ থেকে ১৫০ ফুট গভীরে বঙ্গবন্ধু টানেল বা কর্ণফুলী টানেল এই বছরের শেষের দিকে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই টানেলে প্রতিটি সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। টানেলের পূর্ব ও পশ্চিম ও প্রান্তে থাকছে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। এটি বাংলাদেশের প্রথম সুড়ঙ্গ পথ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নদী তলদেশের প্রথম ও দীর্ঘতম সড়ক সুড়ঙ্গপথ। এ ছাড়া ৭২৭ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ওভারব্রিজ রয়েছে আনোয়ারা প্রান্তে। একটির সঙ্গে অপর টিউবের দূরত্ব ১২ মিটারের মত। প্রতিটি টিউবে দুটি করে মোট চারটি লেইন থাকবে। চীনের সাংহাই নগরীর মতো চট্টগ্রাম শহর ওআনোয়ারাকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। চীনের কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) টানেল নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী গাড়িগুলোকে আর বন্দরনগরীতে ঢুকতে হবে না। চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড হয়ে টানেলের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। ফলে চট্টগ্রাম নগরে যানবাহনের চাপ কমে যাবে। টানেল চালু হলে বদলে যাবে চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চেহারা। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে এসব অঞ্চল। কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে। বাঁশখালীতে হচ্ছে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মহেশখালীতে হয়েছে এলএনজি স্টেশন। আনোয়ারায় হচ্ছে বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেখানে রয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড। এসব প্রকল্পের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু টানেল। চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে আনোয়ারা, বাঁশাখালী, পটিয়া ও চন্দনাইশসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা কক্সবাজার জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। এখানকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে যুক্ত করবে এই সুড়ঙ্গপথ। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। নগরীর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলা যাবে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।