ভূঞাপুরে অপরাধরোধে গণসচেতনতায় ওসি ফরিদুল ইসলাম - দৈনিক আজকের দুর্নীতি
ঢাকারবিবার , ৭ আগস্ট ২০২২

ভূঞাপুরে অপরাধরোধে গণসচেতনতায় ওসি ফরিদুল ইসলাম

দৈনিক আজকের দুর্নীতি
আগস্ট ৭, ২০২২ ২:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কোরবান আলী তালুকদার:

মাদক কেনা-বেচা, মাদক সেবন, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীদের আসা-যাওয়ার পথে ইভটিজিং, কু-প্রস্তাব, বাল্য বিয়ে ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, এ উপজেলার বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক, স্কুল-কলেজ এমনকি দোকানপাটেও সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি।

এছাড়া বিভিন্ন সময় এলাকার মসজিদ গুলোতে নামাজ পরবর্তী সময়ে উপস্থিত মুসুল্লিদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা করে থাকেন। করোনা কালীন সময়ে জনসাধারণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাস্ক বিতরণ সহ সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তাগিদ দিচ্ছেন। এতে সুফলও পাচ্ছেন অনেকে।

ওসি ফরিদুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপজেলার সকল প্রতিষ্ঠান গুলোতে জরুরী প্রয়োজনে পুলিশের সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে থানার সরকারি মোবাইল নম্বরসহ তার নিজের মোবাইল নম্বর, ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিসের মোবাইল নম্বর এবং থানার কর্মরত বিভিন্ন বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) এর মোবাইল নম্বরও লিফলেট টাঙানোর জন্য নিজেই ঘুরে ঘুরে পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করছেন।

এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণে নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে আসবে বলে মনে করছেন সুধী মহল। বিগত দিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এমন উদ্যোগটি এ উপজেলার প্রথম দেখতে পাচ্ছেন ভূঞাপুরবাসী। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম চালু করেছেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুলোতেও পরিদর্শন করে এমন উদ্যোগের বিষয়ে গণসচেতনতা প্রচারণা চালাবেন তিনি। এতে করে ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলোতে সাধারণ গ্রাহকরা আরও বহুগুণে কড়া নিরাপত্তায় লেনদেন করতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের ভূঞাপুর শাখায় টাকা উত্তোলন করতে আসা শফিউর রহমান বলেন, ব্যাংকে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ একটি জরুরি সেবার লিফলেট টাঙানো চোখে পড়ল থানার ফোন নম্বর ও ফায়ার সার্ভিসের ফোন নম্বর দেয়া আছে। জরুরী মূহুর্তে থানায় ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা নেয়া যাবে। বিশেষ করে ব্যাংকে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, যে বেশি অংকের টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফিরতে অসুবিধা হলে যেন পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে এবং পুলিশ সদস্যরা নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিবে। এটি পুলিশের খুবই ভাল উদ্যোগ। তাদের এমন উদ্যোগের জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছি।

ইভজিটিং ও হয়রানির প্রসঙ্গে স্কুল ছাত্রীরা জানান, স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে নানা সময়ে বাজে ছেলেরা হয়রানি করতো। সহপাঠীদের কাছে জানতে পারলাম থানার ইনচার্জ মহোদয়ের বিশেষ উদ্যোগে এখন আর ইভটিজিংসহ হয়রানি বা উক্তক্ত করতে পারবে না।

তারা আরও বলেন, গত দেড় মাস ধরে আমরা নিরাপদে স্কুলে ও বাড়িতে আসা-যাওয়া করতে পারছি। এছাড়া এসব অপরাধ রোধে পুলিশের বিশেষ নজরদারি চোখে পড়েছে আমাদের। রাস্তায় এখন আর বাজে ছেলেরা আড্ডা দিতে পারে না। এজন্য থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম স্যার সহ সকল পুলিশ সদস্যদের আমাদের নিরাপত্তায় কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ভূঞাপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান আরজু বলেন, কয়েকদিন আগে ওসি ফরিদুল ইসলাম স্যার ভূঞাপুর বাজারের বিভিন্ন ব্যাংক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে জননিরাপত্তায় উপস্থিত আলোচনা করছেন মানুষের সাথে। ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলোতে গ্রাহকের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেই লিফলেট টাঙানোর পরামর্শ প্রদান করছেন। স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদক, বাল্য বিয়ের কুফল ও ইভটিজিং রোধে আলোচনা করছেন। তিনি আরও বলেন, পৌর শহরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যানজট এড়াতেও পুলিশের বিশেষ নজরদারি রয়েছে। এসব উদ্যোগ নিয়ে তিনি নিজেই দ্বারে দ্বারে ঘুরে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। এমন বিশেষ উদ্যোগের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ভূঞাপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মহীউদ্দীন বলেন, স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়ায় রাস্তা-ঘাটে ইভটিজিং অনেকটা কমে আসছে। স্কুলের আশে পাশে যত্রতত্র বখাটের আড্ডা নেই। থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদুল ইসলামের ঐচ্ছিক কারণেই এসবরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া তিনি সুযোগ পেলেই স্কুলে এসে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতামূলক দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন এবং তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। তার এমন ভাল উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

এসব বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমি ভূঞাপুরে যোগদানের পর থেকেই এলাকার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে দ্বায়িত্ব পালন করতে শুরু করি। বিশেষ করে মাদক কেনাবেচা, মাদক সেবন, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীদের আসা-যাওয়ার পথে ইভটিজিং, বাল্য বিয়ে ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের ওপর তৎপর হই। উপজেলার বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক, স্কুল-কলেজ এমনকি দোকানপাটেও সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় এলাকার মসজিদ গুলোতে নামাজ পরবর্তী সময় উপস্থিত মুসুল্লিদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। এছাড়া ঈদের আগে যমুনা নদীতে নৌ ডাকাতি বেড়ে যায়। এ বছর ঈদের আগে অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত নদী পথের ডাকাত ও দীর্ঘদিনের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আলম ডাকাতকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।