শেরপুরের হালিম মিয়া বাসর করলেন পুকুরে মনে রাখবে চিরোদিন। - দৈনিক আজকের দুর্নীতি
ঢাকারবিবার , ২৪ জুলাই ২০২২

শেরপুরের হালিম মিয়া বাসর করলেন পুকুরে মনে রাখবে চিরোদিন।

শেরপুর প্রতিনিধি
জুলাই ২৪, ২০২২ ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নে ভিন্নধর্মী বাসরঘর করে সেখানে নববধূকে নিয়ে রাত উদযাপন করলেন এক যুবক। ওই যুবকের স্বপ্ন ছিল তাঁর বিয়ে তিনি অন্যরকমভাবে উদযাপন করবেন। যেন গ্রামের সবাই মনে রাখে। শখ মেটাতে তাই তিনি পুকুরে বাসরঘর তৈরি করেন।জানা গেছে, চরশেরপুর সাতানীপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল হামিদের ছোট ছেলে হালিম মিয়া (২৫) বিয়ে করেন শেরপুর জেলা শহরের মীরগঞ্জ মহল্লায়। তিনি পেশায় একজন ঝালাই মিস্ত্রি। বিয়ের কথা-বার্তা পাকা হওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাড়ির পাশে পুকুরে ঘর তৈরি করে তিনি সেখানে বাসরঘর সাজাবেন। এ জন্য তিনি তার নানা ও চাচার সাথে কথা বলেন এবং পুকুরের মাঝখানে বাঁশের খুঁটি ও কাপড় দিয়ে তৈরি করেন বাসরঘর। বাসরঘরে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয় বাঁশের সাকো। স্থাপন করা হয় খাট-সোফা। সেখানে ফুল ও বেলুন দিয়ে সাজানো হয় ফুলশয্যা। হালিম মিয়ার চাচা রোকন সরকার বলেন, আমার ভাতিজার অনেক দিনের শখ সে এমনভাবে বিয়ে করবে যেন সবাই তাক লেগে যায়। আমাদের সাথে কথা বলে সে পুকুরে বাসরঘর সাজায়। তবে গ্রামের কিছু লোক এ বাসরঘর নিয়ে খারাপ কথা বলেছে। কিন্তু ভাতিজার শখ মেটাতে আমরা তাকে সাহায্য করেছি। তিনি বলেন, শুক্রবার রাত ১২টায় বউমাকে নিয়ে হালিম বাড়িতে আসে এবং রাত তিনটায় দুজনকে আমরা বাসরঘরে তুলে দেই। হালিম মিয়া বলেন, আমার অনেক দিনের শখ এমনভাবে বিয়া করমু যেন সবাই জানে। চিন্তা-ভাবনা কইরা পুকুরে বাসর সাজাবার সিদ্ধান্ত নেই।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী পুকুরে বাসর হবো শুইনা প্রথমে যাইতে রাজি হয় নাই। পরে তারে ম্যানেজ করছি। খুব সুন্দরভাবেই ফুলশয্যা হইছে। এদিকে পুকুরে তৈরি বাসরঘরের কথা জেনে আশপাশের এলাকা থেকে ওই বাড়িতে অনেক মানুষ এসে ভিড় করে। বামনের চর গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়া শহরে থাকেন। তিনি পুকুরে বাসরঘরের কথা শুনে গ্রামে এসেছেন দেখতে। তার ভাষ্য, হালিমের বাসরঘরের কথা এখন গ্রামের মানুষের মুখে মুখে। তাই দেখতে আসছি। খুব ভাল লাগলো। বাসরঘর খুব সুন্দর হয়েছে। ওরা দুইজন সুখে থাকুক এ দোয়া করি।টাঙ্গরপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থী রোকন বলেন, দারুণ আইডিয়া। আমি হালিমকে ধন্যবাদ জানাই। সে তার শখ মিটিয়েছে। চরশেরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বলেন, হালিম এলাকায় হইচই ফেলে দিয়েছে। তার বিয়ের কথা গ্রামের সবার মুখে মুখে। আমাকে বউভাতে দাওয়াত করেছে। আমার খুব ভালো লাগছে। তার জন্য শুবকামনা রইল।তাদের দাম্পত্য জীবন শুখের হক।তাদের এই বিবাহকে সকলে স্বাগত জানিয়েছেন সকলে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।