ব্রেকিং নিউজ

সুস্থ হয়ে বাবা-মায়ের পাশে থাকতে চান আক্কাস

মোয়াজ্জেম হোসেন, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি,
০৯ এপ্রিল, আক্কাস আলী খন্দকার। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ছোট বালিয়াতলী গ্রামের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কোনরকম খেয়ে-পরে চলছিল তাদের সংসার। দিনমজুর পিতা আবদুর রাজ্জাক খন্দকার বরিশালে দিনমজুরের কাজ করতে গিয়ে কারেন্ট এক্সিডেন্ট হলে তার ডান হাতের অর্ধেকটা কেটে ফেলতে হয়। একমাত্র উপার্জনক্ষম পিতা পঙ্গু হয়ে পড়লে সংসারের দায়িত্ব কিছুটা হলেও আক্কাসের উপর পড়ে। যে কারণে বেশিদূর  লেখাপড়া করতে পারেনি সে। ঢাকার মিরপুরের বেরুলায় আযম মিস্ত্রি’র অধীনে ড্রেজারে কাজ করতে যান তিনি। ২০১৮ সালের ৬ জুন বালুর ড্রেজার থেকে পড়ে মেরুদণ্ড ভেঙে যায় আক্কাসের। ২৫ জুন ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স’র চিকিৎসক বদরুল হক ইসলামের অধীনে অপারেশন হয় তার।
পরবর্তী ১ মাস পরে তার কাছে গেলে তিনি বলেন, স্পাইনাল কড ফ্যাক্সার হয়েছে। ২ মাস পরে গেলে বলেন, ৬ মাস পরে ঠিক হয়ে যাবে। উপযুক্ত চিকিৎসা না করাতে পেরে ছেলেটি বর্তমানে বিছানা থেকে উঠতে পারেনা। তার পা দুটো ও আস্তে আস্তে চিকন হয়ে যাচ্ছে। শরীরের সকল অঙ্গ অবশ হয়ে যাচ্ছে। সারাক্ষণ শুয়ে থাকতে হয় তাকে। পায়খানা প্রস্রাবের বেগ পর্যন্ত সে বলতে পারে না। সারাক্ষণ ক্যাথেটর পড়িয়ে রাখা হয়েছে তাকে।
মাসের পর মাস হাসপাতালে থেকে সহায়-সম্বল যা ছিল সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব প্রায় তার পরিবার। ইতিমধ্যেই ডাক্তার, কবিরাজ, ফকির মিলিয়ে সাত লক্ষাধিক টাকা খরচ করেছেন তার চিকিৎসায়।
স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গাজী মো. জামাল জানান, ছেলেটির আহাজারি দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায়না। তিনি আরও বলেন, ব্যংক একাউন্ট এবং মোবাইলে বিকাশ করে দিয়েছি। সকলের কাছে অনুরোধ ছেলেটিকে যথাসম্ভব সাহায্য করবেন।
আক্কাস খন্দকারের মাতা তাসলিমা বেগম বলেন, সহায় সম্বল বলতে আছে বাড়িতে সাড়ে আট কড়া জায়গা। ইচ্ছে করে পুনরায় ভাল ডাক্তার দেখিয়ে ছেলেকে সুস্থ করি। কিন্তু এখন আমরা নিঃস্ব প্রায়। কেঁদে কেঁদে তিনি বলেন, আমার ছেলে উঠতে বসতে পারেনা। পায়খানার বেগ হলেও বলতে পারেনা। আমি মারা গেলে ওকে কে দেখবে। তাই সকলের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন তিনি। 
আক্কাস খন্দকার’র বাবা রাজ্জাক খন্দকার বলেন, চোখের সামনে আমার ছেলে বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে মানতে কষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি পঙ্গু মানুষ কাজ করতে কষ্ট হয়। দুনিয়ায় এমন কোন মানুষ নেই? যে আমার ছেলেটির চিকিৎসার ব্যাবস্থা করে দিবে।
অসুস্থ আক্কাস আলী খন্দকার বলেন, আমার খুব বাঁচাতে ইচ্ছে করছে। ডা.বলেছেন পুনরায় স্পিন অপারেশন করতে পারলে আবার আমি হাটতে পারব। কিন্তু এর জন্য প্রায় নয় লক্ষ টাকার প্রয়োজন যা জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব। তিনি বিত্তবানসহ সব শ্রেণীর মানুষের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি আরও বলেন, এলাকার কিছু মানুষ আমার সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন।
তারা জনতা ব্যাংক, কলাপাড়া শাখায় একাউন্ট খুলে দিয়েছেন। যার হিসাব নম্বর ০১০০২২২৪৮৫২৩৬ এবং বিকাশ নম্বর ০১৭৮৯৮০৭৭৩৬। 
 
কলাপাড়া গ্রাজুয়েট ক্লাব’র এডমিন মুহিবুল্লাহ মুহিব বলেন, আক্কাসের চিকিৎসায় আমরা বিশ হাজার টাকা তুলে দিয়েছি। বাংলাভিশন’র এই রিপোর্টার বলেন, এই সামান্য টাকা দিয়ে তার চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তিনি এলাকার বিত্তবানদের কাছে তার জন্য সাহায্য কামনা করেন। 
 
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসানাত মো. শহিদুল হক বলেন, আক্কাসের অসুস্থতার কথা শুনেছি। তার চিকিৎসায় উপজেলা প্রশাসন যথাসম্ভব সাহায্য করেছে। তিনি মানবিক কারণে আক্কাসের পাশে থাকার জন্য সকলকে অনুরোধ করেন। 

আরো দেখুন

ময়মনসিংহের ত্রিশালে খাদ্যের গোডাউনে অগ্নিকান্ড

স্টাফ রিপোর্টার,ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহল ময়মনসিংহের ত্রিশালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডে আগুনে পুড়ে গেছে খাদ্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *